ডায়াবেটিস হয়ে গেলে করণীয় - স্বাস্থ্য প্রতিদিন

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Monday, September 28, 2026

ডায়াবেটিস হয়ে গেলে করণীয়


ডায়াবেটিস হয়ে গেলে করণীয়

১. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

প্রথমে চিকিৎসকের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের ধরন ও রক্তে শর্করার বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী Fasting Blood Glucose, HbA1c ইত্যাদি পরীক্ষা করা হতে পারে।

২. নির্ধারিত ওষুধ নিয়ম মেনে খান

চিকিৎসক যে ওষুধ বা ইনসুলিন দিয়েছেন, তা নির্ধারিত মাত্রা ও সময়ে ব্যবহার করুন। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করা, মাত্রা কমানো-বাড়ানো বা অন্যের ওষুধ নেওয়া উচিত নয়।

৩. খাবারের দিকে বিশেষ নজর দিন

ডায়াবেটিস হলে না খেয়ে থাকা বা সব ধরনের কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দেওয়া প্রয়োজন নয়। বরং খাবারের পরিমাণ, সময় ও ধরন ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার, উপযুক্ত পরিমাণ প্রোটিন ও পরিমিত পরিমাণ শর্করাজাতীয় খাবার রাখার বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় সীমিত করা ভালো।

৪. নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম করুন

শারীরিকভাবে সক্ষম হলে নিয়মিত হাঁটা বা অন্যান্য ব্যায়াম রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে আপনি যদি ইনসুলিন বা এমন কোনো ওষুধ ব্যবহার করেন যা রক্তে শর্করা কমিয়ে দিতে পারে, তাহলে ব্যায়ামের সময় হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে গ্লুকোমিটার দিয়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা যেতে পারে। কোন সময়ে এবং কত ঘন ঘন পরীক্ষা করতে হবে তা সবার জন্য একই নয়।

৬. HbA1c পরীক্ষা সম্পর্কে জানুন

HbA1c গত কয়েক মাসের গড় রক্তে শর্করার একটি ধারণা দেয়। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর এই পরীক্ষা করতে বলতে পারেন।

৭. পায়ের যত্ন নিন

ডায়াবেটিস দীর্ঘদিন থাকলে স্নায়ু ও রক্তনালিতে সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পায়ে কাটা, ফোসকা, লালচে হওয়া, ফুলে যাওয়া বা ক্ষত হয়েছে কি না নিয়মিত খেয়াল করুন। ক্ষত হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৮. চোখ, কিডনি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন

ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার বিষয় নয়। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে চোখ, কিডনি, স্নায়ু ও হৃদ্‌যন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গে জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ফলোআপ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

৯. ধূমপান ও তামাক এড়িয়ে চলুন

ধূমপান ও তামাক রক্তনালি ও হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

১০. হঠাৎ রক্তে শর্করা খুব কমে গেলে সতর্ক থাকুন

বিশেষ করে ইনসুলিন বা কিছু নির্দিষ্ট ডায়াবেটিসের ওষুধ ব্যবহার করলে রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। কাঁপুনি, ঘাম, প্রচণ্ড ক্ষুধা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ব্যক্তি সচেতন থাকলে দ্রুত শোষিত কার্বোহাইড্রেট নেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে আগে থেকেই একটি ব্যক্তিগত পরিকল্পনা জেনে রাখা ভালো। গুরুতর অবস্থায় বা অচেতন হলে মুখে খাবার বা পানীয় দেওয়া উচিত নয় এবং জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

কখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে?

রক্তে শর্করা অত্যন্ত বেশি বা কম হওয়ার সঙ্গে অচেতনতা, তীব্র দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বমি, বিভ্রান্তি, পানিশূন্যতা বা দ্রুত অবনতিশীল অবস্থা দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: ডায়াবেটিস ধরা পড়া মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়। নিয়মিত চিকিৎসা, সঠিক ওষুধ, খাবারের পরিকল্পনা, শারীরিক কার্যক্রম এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে অনেক মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারেন।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages